রাজ্যে শুরু হলো অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩ জেলাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক

রাজ্যে শুরু হলো অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩ জেলাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গে নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। প্রাক্তন সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্প আনা হয়েছে। নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্পে মাসিক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রূপরেখা নিয়ে আজই তিন জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারী মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ পাঠানো হবে। ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে ৯০ দিনের বিশেষ নথিভুক্তিকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি ক্যাম্প এবং মাঠপর্যায়ের আধিকারিকরা এই আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। আগামী ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ মিলবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে পার্থক্য ও কঠোর নিয়ম

আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে জাতিগত পার্থক্যের ভিত্তিতে ভাতার পরিমাণের ভিন্নতা ছিল। তবে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত যোগ্য মহিলা সমানভাবে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। তবে ভাতার পরিমাণ বাড়লেও সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবার অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দিতেই এই কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। কোনো আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মী এবং পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। তবে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের টাকা বন্ধ হবে না। মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের ধাপে ধাপে এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হবে।

আবেদনের মাধ্যম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনকারীরা অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন। সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল থেকে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় আবেদনপত্র ডাউনলোড করে তা অনলাইনে আপলোড করা যাবে। এছাড়া পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্থানীয় সরকারি অফিসে অফলাইনেও আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

আবেদনের জন্য ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র হাতের কাছে রাখতে হবে। নতুন এই প্রকল্পে জালিয়াতি রুখতে শুধুমাত্র স্ব-ঘোষণার ভিত্তিতে কোনো আবেদন অনুমোদিত হবে না। আবেদন জমা পড়ার পর গ্রামীণ এলাকায় বিডিও এবং শহরাঞ্চলে এসডিও-র নেতৃত্বে বিস্তারিত মাঠপর্যায়ের যাচাই করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তালিকা পাঠানো হবে জেলাশাসকের কাছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের কারণে প্রকৃত অভাবী নারীদের কাছেই এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *