পটনায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারে আসলে কী ঘটেছিল তা নিয়ে রহস্য বাড়ছে

পটনার বিখ্যাত শিক্ষক খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনাটি এখন সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার পরপরই সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে খান স্যার তাঁর প্রতিষ্ঠানের বাইরে গুলি চলার দাবি করলেও, পুলিশি তদন্তের পর নিজের অবস্থান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে এসেছেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুলি চলার কোনো প্রমাণ না মেলায় এখন সুর মেলাচ্ছেন এই জনপ্রিয় শিক্ষকও। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পটনার কোচিং পাড়ায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খান স্যারের বয়ান বদল ও পুলিশের দাবি
মঙ্গলবার গভীর রাতে দেওয়া প্রথম বিবৃতিতে খান স্যার দাবি করেছিলেন, রাত ১০টার দিকে অনলাইন ক্লাস চলার সময় আকস্মিক এই হামলা হয়। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ৮-১০ রাউন্ড গুলি চলতে দেখেছেন এবং নিকটবর্তী একটি কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে দুদিনের মধ্যে তাঁর প্রতিষ্ঠান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তোলেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করার পর নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন তিনি। খান স্যার এখন বলছেন, ঘটনার সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত এবং আবছা ছিল যে তিনি স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারেননি; নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে যা বলেছিলেন, তিনি কেবল সেটাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এমনকি পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর-এও গুলি চালানোর কোনো উল্লেখ নেই।
ব্যবসায়িক শত্রুতা ও আতঙ্কের পরিবেশ
পটনা পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এটি মূলত দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং ইনস্টিটিউটের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিবাদের জের। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ‘জ্ঞানবিন্দু কোচিং’-এর পরিচালকের নির্দেশেই তাঁর কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খান স্যারের কোচিং সেন্টারে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সমাগম ঘটে। কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার কারণে তৈরি হওয়া ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকেই এই হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও ২০১৯ সালে তাঁর সংস্থাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই বারবার ঘটে যাওয়া সহিংসতা পটনার শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশের ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।