ভারতের উপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া, ট্রাম্পের ঘোষণায় বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতের উপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া, ট্রাম্পের ঘোষণায় বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতের উপর ফের ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকা। মার্কিন আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে ভারত-সহ মোট ৬০টি দেশের উপর এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সংকটের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ দিল্লির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও ভারতের অবস্থান

মার্কিন আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের বিনিময়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতেই মূলত এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, যে দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম-ভিত্তিক আমদানির ওপর পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং যারা এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেনি তাদের উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ভারত ছাড়াও এই তালিকায় চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশ রয়েছে।

বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি দিল্লি। তবে কেন্দ্রের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ৩০১ ধারা কার্যকর করার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে। ধারা ২৩২-এর শুল্কের আওতায় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলির পাশাপাশি আরও কিছু নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আমেরিকার হোয়াইট হাউসের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমিকদের কাজের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের উপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে ব্যর্থ দেশগুলির বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য হ্রাস পেতে পারে, যা ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেবে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বমন্দা ও যুদ্ধের বাজারে এই অতিরিক্ত শুল্ক ভারতীয় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের এই প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *