নবান্নে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক, হকার উচ্ছেদ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার কুণালের!

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে বুধবার দিনভর রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ল। বর্ষার মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের সামগ্রিক পুর-পরিকাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের বার্তা দিতেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এই বৈঠকে মূলত সামনে আসা বর্ষাকাল এবং তার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বৈঠক থেকে বেরোতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এলাকার উন্নয়ন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম চর্চিত বিষয় হকার উচ্ছেদ, একাধিক বিষয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি দরবার করেছেন বলে জানিয়েছেন।
উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের ভারসাম্য রক্ষার আর্জি
বৈঠকে বেলেঘাটার কিছু রাস্তা চওড়া করার দাবি জানান কুণাল ঘোষ। রাস্তা চওড়া করার ক্ষেত্রে অবৈধ দখলদার সরানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুললে বেলেঘাটার বিধায়ক হুট করে কোনও পদক্ষেপ না করার অনুরোধ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেখানে হকার সরানো দরকার, সেখানে অ্যাকশন নেওয়ার আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। অনেক জায়গায় এখন যে ধরপাকড় চলছে, তাতে যাতে কোনোভাবেই নির্দোষদের হয়রানি না করা হয়, সেই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় মনে করিয়ে দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে, তাঁরা সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসেবেই জিতে এসেছেন।
বর্ষার প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের বার্তা
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে বর্ষার মরসুমে যাতে রাজ্যজুড়ে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতি বছর বর্ষার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা রুখতে এবার কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত দফতর এবং জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মহানগরের বর্ষাকালীন নিকাশি ব্যবস্থা এবং জল জমার সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে তুলে ধরেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজে সব দলের বিধায়কদের এলাকার নানা সমস্যা ও অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। বৈঠকে পুলিশ-প্রশাসনকে একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, বিরোধী দলের বিধায়করা ফোন করলে পুলিশকে তা ধরতে হবে এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনে সম্মানের সঙ্গে অবস্থান জানাতে হবে।