দিল্লির পর এবার বিহার, হাসপাতালে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই ৩ জীবন

দেশজুড়ে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঘটল মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রসাদ হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের পাঁচ তলার আইসিইউ-তে এই আগুন লাগে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জন রোগীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজ এখনও জারি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দমকল বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ৫৫ মিনিট নাগাদ হাসপাতালের আইসিইউ-তে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। বিষাক্ত ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল ও হাসপাতাল কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে আইসিইউ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন রোগীকে বের করে আনতে সক্ষম হন। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই দুই রোগীর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর মেলে। বাকি অসুস্থ রোগীদের তড়িঘড়ি আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দমকল আধিকারিকদের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। মুজফ্ফরপুরের জেলাশাসক সুব্রত কুমার সেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় আইসিইউ এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট মিলিয়ে বহু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরপর বিপর্যয় ও পরিকাঠামোগত ব্যর্থতা
বিহারের এই ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে আগুন লেগে ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলটির জানলাগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি রাস্তাই খোলা ছিল। ফলে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে সিংহভাগ মানুষের মৃত্যু হয়। দিল্লির এই চরম অব্যবস্থার ঠিক পরদিনই বিহারের হাসপাতালের আইসিইউ-তে আগুন লাগার ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক ভবনগুলির পরিকাঠামোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি নিয়ে চরম উদাসীনতা
এই পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনা দেশের হাসপাতাল এবং বহুতল ভবনগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি ফের প্রকাশ করে দিল। হাসপাতাল বা হোটেলের মতো অতি সংবেদনশীল জায়গায় যেখানে ২৪ ঘণ্টা মানুষের আনাগোনা থাকে, সেখানে জরুরিExit বা পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কেন সচল ছিল না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালের আইসিইউ-র মতো জায়গায় যেখানে রোগীরা সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকেন, সেখানে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি এবং বেসরকারি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অবিলম্বে দেশজুড়ে সমস্ত হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অডিট করা না হলে আগামী দিনে এই ধরণের বিপর্যয় রোখা আসাম্ভব হয়ে পড়বে।