স্টেশন আধুনিকীকরণে সরব শর্বরী, হকার উচ্ছেদ ঘিরে যাদবপুর ও বাঘাযতীনে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত!

স্টেশন আধুনিকীকরণে সরব শর্বরী, হকার উচ্ছেদ ঘিরে যাদবপুর ও বাঘাযতীনে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত!

রেলের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে যাদবপুর ও বাঘাযতীন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখলদার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় এবং বাম নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়েছে। স্টেশন দুটিকে অত্যাধুনিক রূপ দেওয়ার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি বিধায়ক। অন্যদিকে, বিকল্প ব্যবস্থার দাবিতে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সিপিএম।

উন্নয়নের স্বার্থ ও কাটমানির অভিযোগ

স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের দাবি, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে যাদবপুর ও বাঘাযতীন স্টেশনকে ঝাঁ চকচকে ফুটব্রিজসহ আধুনিক পরিকাঠামোয় সাজিয়ে তোলা হবে। এই আধুনিকীকরণের স্বার্থেই স্টেশন সংলগ্ন বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। তবে হকারদের রুটিরুজির বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি ডিআরএম-এর কাছে পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়েছেন। বিধায়কের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে যাদবপুরের স্থানীয় ১০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই অগ্রাধিকার পাবেন, বহিরাগতরা নয়।

এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বিগত ১৫ বছর ধরে যাঁরা তৃণমূলকে ‘তোলা’ বা টাকা দিয়ে সেখানে হকারি করে আসছেন, তাঁদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যারা এতদিন তৃণমূলকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করেছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে তাদের আর এভাবে থাকতে দেওয়া হবে না।

বামপন্থীদের প্রতিরোধ ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

রেলের এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে সিপিএম। মঙ্গলবার রাতে উচ্ছেদ রুখতে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে বুলডোজার আটকে বিক্ষোভ দেখান বাম নেতা-কর্মীরা। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাঘাযতীন ও যাদবপুর এলাকায় হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বাম নেতৃত্বের দাবি, ১৯৮৮ সালের একটি রায় অনুযায়ী, বিকল্প কর্মসংস্থান বা বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ঝুপড়িবাসীদের উচ্ছেদ করা বেআইনি। এই হকার উচ্ছেদ রুখতে ইতিমধ্যে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদের মতো আইনজীবীরা। পাশাপাশি রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সিপিএম সাংসদরা।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত রেলের স্টেশন সংলগ্ন এলাকাকে দখলমুক্ত করে আধুনিক ও ঝাঁ চকচকে করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযানের সূত্রপাত। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েকশো হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ শুরু হওয়ায় স্থানীয় স্তরে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বিজেপি, সিপিএম এবং তৃণমূলের এই ত্রিমুখী রাজনৈতিক দড়িটানাটানি আগামী দিনে যাদবপুর ও বাঘাযতীন অঞ্চলে আরও বড়সড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *