১৫০ নেতার তালিকা প্রস্তুত, সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের অন্দরে এবার বড়সড় ধরপাকড়ের আশঙ্কা!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। দলটির প্রায় ১৫০ জন প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম যুক্ত করে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই আইনগত পদক্ষেপ এবং বড়সড় ধরপাকড় শুরু হতে চলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সিন্ডিকেট থেকে চাকরি চুরি, পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ
তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে জোরপূর্বক জমি দখল, সিন্ডিকেট রাজ চালানো, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা নয়ছয় করার মতো বিষয়। এছাড়াও অবৈধ বালি, মাটি, কয়লা ও পাথর ব্যবসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলার মতো সংগঠিত অপরাধের প্রমাণও মিলছে। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে এই সমস্ত অবৈধ ও আইনবহির্ভূত কার্যকলাপ চালানো হয়েছে।
তদন্তের নতুন মোড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তের ক্ষেত্রে আগে যে শিথিলতা ছিল, নতুন নির্দেশিকায় তা পুরোপুরি বদলে ফেলা হচ্ছে। আগে বহু ক্ষেত্রে থানায় মূল নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআরে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; বরং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তের গতি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সরাসরি মূল অভিযুক্ত নেতাদের জালে জড়াতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের রেয়াত করা হবে না এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।