থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ফিরছে গতি, বড়সড় বদলের মুখে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। গত ২০২২ সাল থেকে বন্ধ বা স্থগিত হয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে আবার সক্রিয় করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ পরিকাঠামো, আবাসন ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানে বড়সড় গতি আসবে। দুর্নীতির অভিযোগের কারণে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অর্থছাড় স্থগিত রাখায় রাজ্যের বহু উন্নয়নমূলক কাজ মাঝপথে আটকে গিয়েছিল। বর্তমানে সেই জট কেটে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ফের রাজ্যে আসতে শুরু করেছে।
নতুন পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড়সড় অনুমোদন মিলেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এর পাশাপাশি যোগাযোগের সুবিধার্থে ৪৫টি নতুন সেতু তৈরির পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে, যা গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেবে।
কর্মসংস্থান ও আবাসন যোজনায় বড় ঘোষণা
রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫Grid লক্ষ কর্মসংস্থান কার্ডধারীকে কাজের আওতায় আনতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ‘বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত বর্তমান কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাঠামো বহাল থাকলেও, জুলাই থেকে নতুন ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত মজুরিভিত্তিক কাজের সুযোগ পাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না পেলে এতে আইনসিদ্ধ সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকছে, যার ব্যয়ভার কেন্দ্র ও রাজ্য যথাক্রমে ৬০:৪০ অনুপাতে বহন করবে।
একই সাথে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের অধীনে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ করে তথ্য যাচাইয়ের পর জেলা স্তরে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প, পিএম আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা এবং দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার মতো প্রকল্পগুলি যৌথভাবে সক্রিয় হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, সেতু, আবাসন ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।