তৃণমূলের দুঃসময়ে দলবদলুর ঘরে ফেরার ইঙ্গিত? দিলীপ ঘোষকে ফোন বাবুলের!

তৃণমূলের দুঃসময়ে দলবদলুর ঘরে ফেরার ইঙ্গিত? দিলীপ ঘোষকে ফোন বাবুলের!

আবার কি গেরুয়া শিবিরে বাবুল সুপ্রিয়? জল্পনার পারদ তুঙ্গে

বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাবুল সুপ্রিয়র ফের পুরনো দলে ফেরার গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রত্যাশিত জয়ের সম্ভাবনার আঁচ পাওয়ার পরই নাকি বাবুল সুপ্রিয় সরাসরি ফোন করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষকে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েনের আবহে এই ফোন কল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক মতাদর্শের সংকট না কি ব্যক্তিগত কৌশলের চাল

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে বারবার দলবদল করাই বাবুলের রাজনৈতিক কৌশল। তৃণমূলের দুর্দিনে যখন বিরোধী দলগুলো ক্রমশ নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে, ঠিক তখনই বাবুলের এই সক্রিয়তা দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এখনই তাঁকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলবদলু হিসেবে পরিচিত বাবুলকে দলে ফেরানোর ক্ষেত্রে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে প্রবল অনীহা রয়েছে বলে খবর।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব

রাজনীতির ময়দানে ‘প্রেম ও যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায্য’—বাবুলের এই মন্তব্যে রাজনীতির চিরাচরিত সুবিধাবাদী চরিত্রের প্রতিফলন স্পষ্ট। তবে বারবার দল পরিবর্তনের ফলে জনমানসে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি সত্যিই তিনি বিজেপিতে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে থাকেন, তবে তা যেমন তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াবে, তেমনই বিজেপির অভ্যন্তরেও পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। শেষ পর্যন্ত বাবুলের এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক সফলতায় পর্যবসিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *