নিনো ভ্রুকুটির মাঝেই দেশে বর্ষার প্রবেশ, স্বস্তির বার্তা হাওয়া অফিসের

তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য অবশেষে সুখবর দিল ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। সমস্ত প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ‘বর্ষার দ্বার’ হিসেবে পরিচিত কেরলে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা আসার কথা থাকলেও, এবার কিছুটা দেরিতে অর্থাৎ ৪ জুন দেশে বর্ষার আগমন ঘটল। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী এই বর্ষাকালের শুরুতেই আগামী সপ্তাহে কেরলের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এল নিনোর আশঙ্কা ও আগামী গতিপথ
দেরিতে হলেও মৌসুমী বায়ুর আগমন স্বস্তি দিচ্ছে, তবে এর মধ্যেই আবহাওয়াবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পুষ্ট করছে ‘এল নিনো’। চলতি বছরে এল নিনো প্রবল শক্তিশালী আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার জেরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার মারাত্মক প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রতিকূলতার মাঝেই আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ু কর্ণাটকের আরও কিছু অংশ, তামিলনাড়ু, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অগ্রসর হবে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বায়ুর আরও উত্তরে তেলেঙ্গানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সাধারণত আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর— এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মৌসুমী বায়ু ক্রমান্বয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলার পরিস্থিতি ও বর্ষার অপেক্ষা
কেরলে বর্ষার আগমনী ঘণ্টা বাজলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনই মৌসুমী বায়ু প্রবেশের সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেনি হাওয়া অফিস। তবে বর্ষা আসার আগেই সাময়িক স্বস্তির আভাস রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও রাজ্যে প্রকৃত বর্ষার স্থায়ী বৃষ্টির জন্য বঙ্গবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।