মমতার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারে তোলপাড় কালীঘাট, নিরাপত্তা ফেরাতে শুভেন্দুর দ্বারস্থ কুণাল!

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২০ বছরের পুরনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের (পিএসও) আকস্মিক প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন থেকে এই নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়, যখন আচমকাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পিএসও স্বরূপ গোস্বামী, কুসুম দ্বিবেদী সহ পুরনো নিরাপত্তা সিস্টেমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সামনে থেকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কয়েকজন অচেনা অফিসারকে পাঠানো হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ফিরিয়ে দেন। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে কোনো সরকারি পুলিশি নিরাপত্তা নেই এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সাদা টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের আইটি সেল প্রধান উপাসনা চৌধুরী সহ একাধিক কর্মী রাতেই নেত্রীর বাড়ি পাহারার সিদ্ধান্ত নেন এবং দলীয় স্তরে নিজস্ব উদ্যোগে ২ জন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত’ আখ্যা দিয়ে বেলেঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পুরনো পিএসও এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান। সংসদ সদস্য সাগরিকা ঘোষও গভীর রাতে একজন ভিআইপি-কে এভাবে নিরাপত্তাহীন করার যৌক্তিকতা নিয়ে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পর থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলি থেকে গার্ডরেল ও পুলিশ কিয়স্ক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবুও এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে রাজ্য প্রশাসন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ও মন কষাকষি আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।