মমতার পাশ থেকে সরলেন ‘শহিদ জননী’ ফিরোজা, বাংলায় ঘনীভূত রাজনৈতিক সংকট
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/02/mamata-banerjee-2025-08-02-12-08-48.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালট। ‘নব্য তৃণমূল’ গঠন এবং একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের আবহে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা ‘শহিদ জননী’ ফিরোজা বিবি। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া এই প্রবীণ নেত্রী এবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের তৎকালীন নেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই থাকছেন। চন্দননগর ও বিধাননগরের মেয়রদের পদত্যাগের পর ফিরোজা বিবির এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে চলমান ভাঙন ও মুষল পর্বকে আরও উসকে দিল।
ক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক পালাবদল
ফিরোজা বিবির এই দলত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে টিকিট না পাওয়া এবং শহিদ পরিবারগুলোর প্রতি অবহেলার গভীর ক্ষোভ। বিগত ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ফিরোজা বিবি কিংবা নন্দীগ্রামের অন্য কোনো শহিদ পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করেনি। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ পরিবারদের যথাযোগ্য সম্মান দেননি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এই বঞ্চনাবোধ থেকেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ‘শহিদ জননী’।
তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফিরোজা বিবির দলবদল তৃণমূলের জন্য এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। কারণ, যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ওপর ভর করে ২০১১ সালে বাংলায় বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, সেই আন্দোলনের প্রতীকী মুখই এখন দলছুট। ফিরোজা বিবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকায় থাকা শুভেন্দুর পাশেই এলাকার মানুষ রয়েছে এবং তিনিও শান্তিস্থাপনা ও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান বিজেপি সরকারের পাশে থাকবেন।
অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করেছে। চন্দননগরের পর বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ একাধিক বরো চেয়ারম্যানও পদত্যাগের পথে। ফিরোজা বিবির মতো তৃণমূলের আদি ও আবেগঘন স্তম্ভের প্রস্থান দলটির অন্দরে চলমান মহাবিদ্রোহকে আরও তীব্র করবে এবং এর ফলে রাজ্যে নব্য রাজনৈতিক সমীকরণ আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।