মাত্র ৩২ বছরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন কে এস ভরত, এবার কি তবে শুধুই ঘরোয়া মঞ্চে ফোকাস

মাত্র ৩২ বছরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন কে এস ভরত, এবার কি তবে শুধুই ঘরোয়া মঞ্চে ফোকাস

ভারতীয় ক্রিকেট মহলে আচমকাই অবসরের হাওয়া। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কে এস ভরত। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই পুরো যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য বিসিসিআই, পরিবার, সতীর্থ এবং ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের এই ক্রিকেটার টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরবকে প্রতিটা মুহূর্তের জন্য মূল্যবান বলে বর্ণনা করেছেন।

টেস্ট ক্যারিয়ার ও নেপথ্যের নায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

কে এস ভরতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মূলত টেস্ট ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের হয়ে মোট ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই ৭ ম্যাচে ২০.০৯ গড়ে তিনি ২২১ রান করেছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর ৪৪ রান। এছাড়া উইকেটকিপার হিসেবে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি ২১টি ক্যাচ লুফে নিয়েছেন এবং একটি স্টাম্পিং করেছেন। নিজের সাফল্যের পেছনে চারজনের পরিবারের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি অন্ধ্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশাখাপত্তনম জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে শৈশব থেকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। এমনকি মাঠকর্মী বা গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও ভোলেননি ভরত।

কোহলি-রোহিত-দ্রাবিড়ের অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নিজের ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রাহুল দ্রাবিড়ের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ভরত। ২০২১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে তাঁর আইপিএল অভিষেক হয়েছিল, যা তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। এছাড়া অধিনায়ক রোহিত শর্মার অধীনে টেস্ট অভিষেক হওয়াকে তিনি ‘অমূল্য’ বলে বর্ণনা করেন এবং ‘ইন্ডিয়া এ’ দল থেকে শুরু করে সিনিয়র দল পর্যন্ত কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের অবিস্মরণীয় নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চ এবং বিসিসিআই-এর সফর শেষ হলেও ক্রিকেটের সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন ভরত। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন প্রজন্মকে গাইডেন্স, মেন্টরিং ও কোচিং করানোর মাধ্যমে ক্রিকেটকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করে যাবেন তিনি। তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে সব স্বপ্নই সত্যি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *