তৃণমূলে বীতশ্রদ্ধ হয়ে রাজনীতি ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস!

বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র অস্তিত্বের সংকট ও অসন্তোষ এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। পরাজয়ের ধাক্কা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি চরম বীতশ্রদ্ধ হয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসরের ঘোষণা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা বিদায়ী মেয়াদের হেভিওয়েট নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী। হুগলির কোন্নগরের কানাইপুরের নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে তিনি তাঁর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। যখন দলের পরাজিত ও জয়ী নেতাদের একটা বড় অংশ দলবদল করে নতুন শাসকদল বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন, ঠিক তখনই তাঁর এই রাজনৈতিক সন্ন্যাস রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পরাজয়ের ধাক্কা ও দলীয় কোন্দল
একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হুগলি জেলার জাঙ্গীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থীর কাছে মাত্র ৮৫০ ভোটের সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন তৎকালীন হেভিওয়েট মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। নির্বাচনের এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। দলীয় সূত্রের খবর, পরাজয়ের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং একে অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতা তিনি একেবারেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের কারণে ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নির্ধারণের বৈঠক এবং দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলির একটিতেও তাঁকে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় ও সম্ভাব্য প্রভাব
অবসরের ঘোষণা প্রসঙ্গে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। কোনো নির্দিষ্ট দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি স্পষ্ট জানান, কুৎসা, অপপ্রচার, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, অশালীন কথাবার্তা এবং যে যাঁর বিরুদ্ধে যা খুশি বলার যে নোংরা পরিবেশ বামফ্রন্টের আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজত্ব হয়ে আজও চলছে, তার সঙ্গে তিনি নিজেকে কোনোভাবেই খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না। জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে না ধরে সরে যাওয়াকেই তিনি শ্রেয় বলে মনে করেছেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি ও দলীয় সংস্রব ত্যাগ করলেও আগামীতে লেখালেখি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। ওয়ানপ্রহরের মতে, তাঁর এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত প্রস্থান নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ, যা তৃণমূলের অন্দরে নৈতিক মনোবল আরও দুর্বল করতে পারে।