সরকারি স্কিমেও কাটমানির থাবা, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলিতে ধুন্ধুমার কড়েয়ায়

সরকারি স্কিমেও কাটমানির থাবা, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলিতে ধুন্ধুমার কড়েয়ায়

রাজ্যে সরকার বদলালেও কাটমানি সংস্কৃতির যে কোনো বদল ঘটেনি, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো কলকাতার কড়েয়া থানা এলাকায়। এবার রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পের ফর্ম পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়েয়া থানার পুলিশ মহসিন আলি নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সরকারি এই প্রকল্পের ফর্ম বিলির পুরো প্রক্রিয়াটি চলছিল এলাকারই একটি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে বসে।

দলীয় কার্যালয়েই দুর্নীতির আসর, ক্ষোভ তুঙ্গে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কড়েয়া এলাকার ওই নির্দিষ্ট পার্টি অফিস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি করা হচ্ছিল। অভিযোগ, ফর্ম নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে এসে এইভাবে কাটমানি দিতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগীরা। জালিয়াতি এবং তোলাবাজির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এরপরই ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কড়েয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করে এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মহসিন আলিকে গ্রেফতার করে।

প্রভাব এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি

এই ঘটনার ফলে শাসকদলের অন্দরে এবং স্থানীয় স্তরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। নতুন জমানাতেও কীভাবে সরকারি প্রকল্পকে হাতিয়ার করে দলীয় কার্যালয় থেকে কাটমানি চক্র চালানো সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। কড়েয়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃত মহসিন আলিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই তোলাবাজি চক্রের পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা ঠিক কোথায় যেত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *