গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস, টলিপাড়ায় একনায়কতন্ত্রের অবসানের সুর রুদ্রনীলের গলায়

যৌন হেনস্থা এবং তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টলিউডের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্বরূপ বিশ্বাস। নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর থেকেই টলিপাড়া এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও টালিগঞ্জের মেকআপ আর্টিস্ট ফেডারেশনের এক নারী সদস্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্বরূপের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান টেকনিশিয়ান স্টুডিওর কলাকুশলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শোষণ ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাস একচ্ছত্র একনায়কতন্ত্র চালাতেন। রুদ্রনীলের অভিযোগ, শিল্পী, প্রযোজক থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান— প্রত্যেককেই স্বরূপ নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করতে চাইতেন। কেউ তাঁর অবাধ্য হলে বা তাঁর কথামতো কাজ না করলে, তৎক্ষণাৎ তাঁর কাজ কেড়ে নেওয়া হতো। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রুদ্রনীল বলেন, তিনি যখন অতীতে স্বরূপের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, তখন টেকনিশিয়ানদের বুকে কালো ব্যাজ পরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামানো হয়েছিল।
একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের গলাতেও। তাঁর দাবি, গত দেড় দশক ধরে টলিপাড়ার শিল্পী ও কলাকুশলীদের ওপর যে অত্যাচার চলেছে, এটি তারই স্বাভাবিক পরিণতি। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হতো বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
ঘটনার প্রভাব ও আইনি জটিলতা
দীর্ঘদিন ধরে টলিগঞ্জের কলাকুশলীদের একটা বড় অংশ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, গত দু-বছর ধরে তিনি কাজ পাচ্ছিলেন না এবং কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়, পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ নম্বর ধারা যুক্ত করে মামলা রুজু করেছে। এই গ্রেফতারির ফলে টলিপাড়ার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ও ক্ষমতার রাশ অনেকটাই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে স্টুডিও পাড়ায় স্বৈরাচারী মনোভাব এবং তোলাবাজি সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।