অকারণে ট্রেনের চেন টানলেই সোজা জেল আর জরিমানা!

সামান্য ব্যক্তিগত কারণে ট্রেনের জরুরি চেন টেনে হাজার হাজার যাত্রীর চরম ভোগান্তি ডেকে আনছেন অনেকেই। এবার এই প্রবণতা রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পূর্ব রেল। রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৬ সালের মে মাসেই অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে অ্যালার্ম চেন টানার ফলে ৮৬টি ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনে।
তুচ্ছ কারণে ব্যাহত পরিষেবা
রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর তদন্তে দেখা গেছে, কোনও প্রকৃত জরুরি অবস্থা ছাড়াই যাত্রীরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চেন টানছেন। গন্তব্য ফেলে যাওয়া, আত্মীয়দের নামতে দেরি হওয়া, চেন হ্যান্ডেলে ব্যাগ ঝুলিয়ে রাখা কিংবা নিছক অসতর্কতায় হাত লেগে যাওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। এর ফলে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি যেন ব্যক্তিগত সুবিধামতো থামানোর যানে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ প্রবণতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছে আসানসোল ও হাওড়া ডিভিশন। পাশাপাশি মালদা ও শিয়ালদহ শাখাতেও ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
আইনি ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারি
পূর্ব রেল যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, অ্যালার্ম চেন টানার বিষয়টি রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৯৮৯-এর ১৪১ ধারা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এই সুবিধাটি কেবলমাত্র আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য। অকারণে এই চেন টানা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। অপরাধীদের হাতেনাতে ধরতে ও ট্রেনের অপ্রয়োজনীয় দেরি রুখতে কামরাগুলোতে আরপিএফ-এর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ট্রেনের সময়ানুবর্তী যাত্রা নিশ্চিত করতে অননুমোদিতভাবে চেন টানা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি।