দক্ষিণে গেরুয়া শিবিরের বড় বিপর্যয়, বিজেপি ছেড়ে নতুন দল গড়ছেন তামিলনাড়ুর ‘সিংহম’ অন্নামালাই!

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ছাড়লেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে অন্নামালাই। শুক্রবার দলটির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরপরই তিনি এক ভিডিও বার্তায় নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দাপুটে এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূল স্তরে অসন্তোষ ও দল ত্যাগের নেপথ্য কারণ
অন্নামালাইয়ের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি আকস্মিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে নৈনার নাগেন্দ্রনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের একাংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। যদিও তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত বলে দাবি করেছেন, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সৃষ্ট অসন্তোষ থেকেই এই বিদায়। অন্নামালাই জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বরেই তিনি শীর্ষ নেতৃত্বকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দলের অনুরোধে তামিলনাড়ুর নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ মে মাস পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন। সম্প্রতি দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরেই তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের প্রভাব
শিক্ষিত ভাবমূর্তি ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কৌশলের কারণে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অন্নামালাই ‘সিংহম’ নামে পরিচিত। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেও পরবর্তীতে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তিনি রাজ্যে বিজেপির ভোট ব্যাংক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর এই দল ত্যাগের ফলে তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, অন্নামালাইয়ের নতুন দল আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলির আধিপত্যের মাঝে তাঁর এই নতুন দল রাজ্যের তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের আকৃষ্ট করে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।