বিদ্রোহী শিবিরে পাল্টা ভাঙনের জল্পনা উড়িয়ে সংখ্যা বাড়ানোর হুঙ্কার ঋতব্রতর!

বিদ্রোহী শিবিরে পাল্টা ভাঙনের জল্পনা উড়িয়ে সংখ্যা বাড়ানোর হুঙ্কার ঋতব্রতর!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন বিদ্রোহের আবহেই এবার বিদ্রোহী শিবিরের ঐক্যে ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলল। ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মনোনীত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে পাল্টা সুর চড়তে শুরু করেছে। দলের একাংশ যখন প্রকাশ্যে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলনেত্রী দেখতে চাই’ বলে আওয়াজ তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা রণকৌশল নিয়ে ময়দানে নামলেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত। শুক্রবার স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের শিবিরে বিধায়কদের সংখ্যা কমার কোনও সম্ভাবনাই নেই, উল্টে এই সংখ্যা ক্রমশ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন ইতিমধ্যে তাঁদের পকেটে রয়েছে দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে শক্তির আসল রূপ সামনে আসবে। দলের আরও জয়ী বিধায়করা তাঁদের শিবিরে যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে রণকৌশলগত অবস্থান নিয়ে ঋতব্রত এখনই কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে আগামী দিনে সংখ্যা যে আরও উর্ধ্বমুখী হবে, সেই বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। এই রাজনৈতিক ভাঙনের জল এবার লোকসভার সাংসদদের একাংশের মধ্যেও ছড়াতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরোধিতা করে দলের একাধিক সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরের দিকে পা বাড়াতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নেপথ্য কারণ ও সার্বিক প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং সাংগঠনিক স্তরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বই এই ব্যাপক বিদ্রোহের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের আট জন সংখ্যালঘু বিধায়ক-সহ একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ নেতার ঋতব্রতর পাশে দাঁড়ানো এবং বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর আচমকা পদত্যাগ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিদ্রোহের জেরে শাসক দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিষদীয় রাজনীতিতে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ায় রাজ্য প্রশাসনের স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক সংঘাত

বিদ্রোহের আঁচ এবার রাজপথের সংঘাতে রূপ নিতে শুরু করেছে। বিদ্রোহী বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা ও সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিউ মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সন্দীপন সাহা। অন্য বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লোক এনে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণকে বিজেপি নেতৃত্বও সমর্থন করবে না বলে দাবি করে বিদ্রোহী শিবির এখন প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *