পাপের বিনাশ ঘটবেই, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস টলিপাড়ায়

টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশের ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁর এই গ্রেপ্তারির খবর আসতেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও স্বস্তির জোয়ার বয়ে গিয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু প্রতিভাবান শিল্পী ও কলাকুশলীর কেরিয়ার ধ্বংস করার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্বরূপের গ্রেপ্তারের পর টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেতা, অভিনেত্রী ও পরিচালকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও টলিপাড়ার প্রতিক্রিয়া
স্বরূপ বিশ্বাসের ছায়াশাসনে দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের স্বাধীন কাজের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তাঁর গ্রেপ্তারিকে ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ বলে আখ্যা দিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র, ঋদ্ধি সেন ও ঋত্বিক চক্রবর্তীদের মতো তারকারা। পরিচালক জয়ব্রত দাস, যাঁর ছবি ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন Arts’ মুক্তিতে বাধা পেয়েছিল, তিনি একে ‘ওয়ার্ল্ড সিনেমা ডে’ হিসেবে উদযাপনের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী ও সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়রা এই পতনকে অহংকারী ও স্বৈরাচারী মানসিকতার অবসান হিসেবে দেখছেন। সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু শারীরিক নয়, যে মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, এই গ্রেপ্তারির মাধ্যমে তার বিচার শুরু হলো।
পতন ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্বরূপ বিশ্বাসের এই পতন মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার, টলিপাড়ায় একচ্ছত্র মৌরসীপাট্টা চালানো এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমের কারণেই ত্বরান্বিত হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা থানার সামনে জমা হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগানে বিক্ষোভ দেখান, যা জনমানসে তাঁর প্রতি তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার ফলে টলিউডে ভয়ের পরিবেশ কেটে গিয়ে কাজের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে শ্রীলেখা মিত্র ও সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু একজন স্বরূপের পতনেই সিস্টেমের গলদ দূর হবে না, বরং ক্ষমতার এই অপব্যবহারের পেছনে থাকা মূল চক্রীদের চিহ্নিত করাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।