ডিএ বৃদ্ধিতে ৯ শতাংশ কি শুধুই স্বপ্ন, এখনই মহার্ঘ ভাতা বাড়ছে না রাজ্য সরকারি কর্মীদের!

ডিএ বৃদ্ধিতে ৯ শতাংশ কি শুধুই স্বপ্ন, এখনই মহার্ঘ ভাতা বাড়ছে না রাজ্য সরকারি কর্মীদের!

নবান্নে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি ইতিবাচক হলেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সুখবর মেলেনি। প্রায় ১০০ মিনিটের এই দীর্ঘ বৈঠকে ৯ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অধরাই রয়ে গেল। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’, ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’ এবং ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী পরিষদ’-এর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের হারে ডিএ প্রদানের জোরালো দাবি জানালেও প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা করেনি রাজ্য সরকার। তবে আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেটে কর্মচারীদের জন্য বড় কোনো সুখবর থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ডিএ বৈষম্য ও ক্ষোভের কারণ

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে এ রাজ্যের কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ থেকে ২২ শতাংশ। এই বিশাল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই তাঁরা বকেয়া সংক্রান্ত জট কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন এবং অল ইন্ডিয়া সিপিআই (AICPI) মেনেই আগামীতে ডিএ ঘোষণা করা হবে।

অবসরপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার ও সপ্তম বেতন কমিশনের ইঙ্গিত

বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কর্মরতদের চেয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করেছে অর্থ দপ্তর। কর্মরতদের জন্য এখনই আর্থিক সুবিধা না মিললেও, নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন লাগু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকরী হলে সামগ্রিক বেতন ও ভাতার কাঠামোয় বড়সড় বদল আসতে পারে।

আপাতত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন ডিএ মামলার স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি এবং আগামী ২২ জুনের রাজ্য বাজেটের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবান্ন ও কর্মচারী সংগঠনগুলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *