পতন বিশ্বাস ব্রাদার্সের, স্বরূপের গ্রেপ্তারি ঘিরে উত্তাল নিউ আলিপুর ও সুরুচি সংঘ

তৃণমূলের রাজনৈতিক ভরাডুবির পর অবশেষে অবসান ঘটল টলিপাড়া ও দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রভাবশালী ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একছত্র আধিপত্যের। এক মেকআপ আর্টিস্টকে দু’বছর ধরে কাজ না দেওয়া, আর্থিক প্রতারণা এবং শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাউন্সিলর স্বরূপ বিশ্বাসকে। এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় নিউ আলিপুরে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের ক্লাব হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘সুরুচি সংঘ’-এ চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
বিলাসবহুল ক্লাবঘর ও সরকারি সামগ্রীর হদিস
উত্তেজিত জনতা ক্লাবের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বেরিয়ে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্লাবের দোতলার ঘরে সাধারণ ক্লাব সংস্কৃতির পরিপন্থী এক বিলাসবহুল পরিবেশের সন্ধান মেলে, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের। সেখানে পাওয়া গেছে একটি কিং সাইজ বেড, দামি সিলিং ফ্যান ও বিলাসবহুল শৌচালয়। স্থানীয়দের দাবি, জনরোষের আঁচ পেয়ে ঘর থেকে অতি সম্প্রতি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) খুলে নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্লাবের অন্য একটি ঘরে বিপুল পরিমাণে সরকারি পানীয় জল ‘প্রাণধারা’র বোতল এবং ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাশি রাশি শাড়ি মজুত থাকতে দেখা যায়। ক্লাবের আড়ালে ঘুরপথে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সামগ্রী আত্মসাৎ করা হতো বলে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
জনরোষ ও টলিপাড়ার ক্ষোভের কারণ
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং কলাকুশলীদের একাংশের মধ্যে বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। অভিযোগ, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পুঁজি করে তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস টলিপাড়ায় একচেটিয়া সিন্ডিকেট রাজ ও আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলা এবং বিরোধীদের কাজ থেকে বঞ্চিত করার মতো একাধিক অভিযোগ আসছিল। শেষ পর্যন্ত এক ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতায় আইনের জালে ধরা পড়েন স্বরূপ।
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে পুঞ্জীভূত জনরোষ আছড়ে পড়ে স্বরূপের অনুগামীদের ওপর। এদিন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ‘শিষ্য’কে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে বেধড়ক মারধর করে। শেষ পর্যন্ত নিউ আলিপুর থানায় আশ্রয় নিয়ে কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচান ওই ব্যক্তি।
সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা টলিউডের অন্দরের ভয় ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পাশাপাশি, সরকারি ত্রাণের সামগ্রী ক্লাবে মজুত থাকার বিষয়টি আগামী দিনে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাস ব্রাদার্সের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড় এনে দিতে পারে।