উৎসবের নামে ৭০০ ডলফিন ও তিমি হত্যা, ফারো দ্বীপের নৃশংসতায় স্তব্ধ বিশ্ব!

উৎসবের নামে ৭০০ ডলফিন ও তিমি হত্যা, ফারো দ্বীপের নৃশংসতায় স্তব্ধ বিশ্ব!

ডেনমার্কের ফারো দ্বীপে হাজার বছরের প্রাচীন প্রথা ‘দ্য গ্রাইন্ড’ উৎসবের নামে ফের দেখা গেল ভয়াবহ প্রাণিসংহারের দৃশ্য। গত ২৭ মে ফারো দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে প্রায় ৭০৬টি তিমি ও ডলফিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভাইকিং জমানার এই প্রথা মেনে সমুদ্র থেকে জাল দিয়ে টেনে এনে অগভীর জলে জীবন্ত অবস্থায় এই প্রাণীদের ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সমুদ্রতটে শয়ে শয়ে মৃতদেহ পড়ে থাকার সেই বীভৎস দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

নৃশংসতার ময়নাতদন্ত ও প্রশাসনিক অবস্থান

জানা গেছে, এই উৎসবে টরসভনে ৪০২টি পাইলট তিমি, স্কালাবোটনুরে ১৬৮টি এবং হাভালভিকে ১৩২টি হোয়াইট সিডেড ডলফিন হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় বড়দের পাশাপাশি শিশুদের উপস্থিতি এবং বিকৃত উল্লাসের বিষয়টি পশু অধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সি শেফার্ড’ ও ‘পেটা’-র মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো এই নিষ্ঠুরতাকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, আধুনিক বিশ্বে খাদ্য সংগ্রহের প্রয়োজন না থাকলেও শুধুমাত্র প্রথা রক্ষার নামে এই গণহত্যা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফারো দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসনের দাবি, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেই এই উৎসব পরিচালিত হয় এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এই প্রাণীদের সংখ্যা পর্যাপ্ত। তবে দেশটির সংসদ প্রাণী সুরক্ষা আইনে পরিবর্তন এনে ডলফিন সংরক্ষণের আইন বাতিল করায় প্রতি বছর হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবিদেরা। স্থানীয় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক প্রাণীদের বিলুপ্তির আশঙ্কাও বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *