ইরানের সম্পত্তিতেই ক্ষতিপূরণ! মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জরুরি বার্তা নিয়ে তেহরানে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সম্পত্তিতেই ক্ষতিপূরণ! মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জরুরি বার্তা নিয়ে তেহরানে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে ওয়াশিংটন।

মধ্যস্থতার বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তান

পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার রাতে তেহরানে পৌঁছে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের জন্য একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পাঠানো এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে পুনরায় আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসলেও কোনো কার্যকর রফাসূত্র বেরিয়ে আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও আমেরিকা সমর্থিত দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে হামলা ও পালটা হামলার ঘটনা ঘটায় পাকিস্তানের এই তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি জল্পনা তৈরি করেছে।

ইরানি সম্পত্তি দিয়ে ক্ষতিপূরণের পথে ট্রাম্প

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে জব্দ করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন। ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও বাহরিনের মতো মিত্র দেশগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির মোকাবিলায় আমেরিকার মাটিতে বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্টকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানের সম্পদ ব্যবহার করে মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ আরও কণ্টকময় হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের রাডার সিস্টেমে আমেরিকার হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পস। এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও বিমান চলাচল পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *