অঙ্গনওয়াড়ির পুষ্টিকর খাবারে আস্ত সাপের বাচ্চা! অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন গর্ভবতী নারী

মধ্যপ্রদেশের পানধুর্না জেলায় অঙ্গনওয়াড়ির সরবরাহকৃত খাবারের প্যাকেটে আস্ত সাপের বাচ্চা পাওয়া যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারঘাট কামথি গ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সরকারিভাবে যে পুষ্টিকর লাড্ডুর প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, সেটি খুলতেই বেরিয়ে আসে মরা সাপের বাচ্চা। সৌভাগ্যবশত, খাবারটি গ্রহণের আগেই প্যাকেটটি খোলা ও সাপের বিষয়টি নজরে আসায় ওই নারী বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এই ঘটনা সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্নবিদ্ধ খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা
সরকারি প্রকল্পের আওতায় গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যে খাবার সরবরাহ করা হয়, তা এই পর্যায়ে পৌঁছানোয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খাবারের প্যাকেটের ভেতর সাপের উপস্থিতি সরাসরি সরকারি খাদ্য প্যাকেজিং প্রক্রিয়ার গাফিলতি এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি পালনের অভাবকেই নির্দেশ করছে। প্যাকেটটি বাড়িতে নিয়ে আসার পর যখন তা খোলা হয়, তখনই এই চাঞ্চল্যকর দৃশ্যটি সামনে আসে। এরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। এই ঘটনাটি সরকারিভাবে বিতরণ করা খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
স্থানীয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে ওই খাবারের প্যাকেটটি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কীভাবে খাবারের প্যাকেটের ভেতরে সাপটি ঢুকল, তা নিশ্চিত করতে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ল্যাবরেটরির রিপোর্ট ও তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এই ধরনের গাফিলতি রোধে এখন প্রশাসনিক নজরদারি আরও বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে।