লিপুলেখ বিতর্কের মাঝেই দিল্লির প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেপাল, ভারতকে বললেন অর্থনীতির চালিকা শক্তি!

লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল কাঠমান্ডু। নয়াদিল্লি সফরে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। সেই বৈঠকের পর ভারতকে ‘অর্থনীতির চালিকা শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার বড়সড় ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ভুলে উন্নয়ন ও কূটনীতিতে জোর
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের আবহে তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত সংযোগ, জ্বালানি এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে অত্যন্ত সদর্থক আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশির খানাল স্পষ্ট জানান, নেপালের নতুন নেতৃত্ব ভারতকে পুরনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। বরং একটি উদীয়মান, গতিশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিগত অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে নতুন ভারতের উন্নয়ন অংশীদার হতে চায় নেপাল। উন্মুক্ত সীমান্ত যাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
লিপুলেখ বিতর্ক ও নয়া দিল্লির কড়া বার্তা
এই জরুরি সফরের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে সাম্প্রতিক লিপুলেখ গিরিপথ বিতর্ক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এই বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে চীন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা বা মধ্যস্থতা দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারত শুধু নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করেছে। কাঠমান্ডুর এই অবস্থানে তীব্র আপত্তি জানিয়ে নয়াদিল্লি কড়া বার্তা দেয় যে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ভারত সরকারের এই কড়া অবস্থানের পরই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ড্যামেজ কন্ট্রোল বা ক্ষোভ প্রশমন করতে নেপালের বিদেশমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির প্রশংসা করে নেপাল মূলত এটাই বার্তা দিতে চাইছে যে, সীমান্তের বিরোধকে দূরে সরিয়ে তারা দিল্লির সাথে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে গভীরভাবে আগ্রহী।