ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতা পদকে চ্যালেঞ্জ, সোমবার হাইকোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল

ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতা পদকে চ্যালেঞ্জ, সোমবার হাইকোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল

বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন আইনি লড়াই শুরু হতে চলেছে। এই নিয়োগের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের নির্দেশ তাঁরা মানছেন না এবং এই বিষয়ে সোমবারই আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।

স্পিকারের যুক্তি ও তৃণমূলের আপত্তি

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি এবং দলীয় অন্তর্কলহের জেরে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজেদের মতো করে পরিষদীয় দল গঠন করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সই ও সমর্থনের ভিত্তিতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। স্পিকারের দাবি, একদিনে শোকজ ছাড়া কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করা যায় না এবং নিয়ম মেনেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পাল্টা দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দল থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কৃত। দল থেকে বহিষ্কৃত কোনো বিধায়ক কীভাবে একটি দলের পরিষদীয় নেতা বা বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

এই আইনি লড়াইয়ের ফলে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্পিকারের এক্তিয়ার এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিধি এই মামলার মাধ্যমে নতুন করে আদালতের আতশকাচের তলায় আসতে চলেছে। যদি আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তবে বিধানসভায় তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব তীব্র ব্যাকফুটে চলে যাবে। আর যদি আদালতের রায় তৃণমূলের পক্ষে যায়, তবে বিদ্রোহী বিধায়কদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বিধানসভার অন্দরে তাঁদের অবস্থান বড়সড় ধাক্কা খাবে। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *