নারীদের প্রকল্পে পুরুষের থাবা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার জালিয়াতিতে রঘুনাথগঞ্জে ধৃত যুবক!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/05/lakshmir-bhandar-2026-06-05-14-41-47.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
রাজ্য সরকারের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে চালিত এই প্রকল্পের টাকা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে এক যুবকের অ্যাকাউন্টে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ শরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত যুবক রঘুনাথগঞ্জের মিঠুপুর বেলতলা এলাকার বাসিন্দা।
পদ্ধতিগত ত্রুটি ও জালিয়াতির কৌশল
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার একচ্ছত্রভাবে কেবল নারীদেরই রয়েছে। তবে তদন্তে জানা গেছে, ধৃত শরিফুল ইসলাম সম্পূর্ণ ভুয়ো তথ্য এবং জাল নথিপত্র তৈরি করে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিল। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে ওই প্রকল্পের সরকারি অনুদান নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তুলছিল। সম্প্রতি ব্লক প্রশাসন ও জেলা আধিকারিকদের স্ক্রুটিনিতে একজন পুরুষের নাম এই প্রকল্পের উপভোক্তা হিসেবে উঠে আসায় খটকা তৈরি হয়। এরপরই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে নথিপত্রের একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ পায় প্রশাসন।
প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক চক্রের আশঙ্কা
এই জালিয়াতি প্রকাশ্য আসতেই রঘুনাথগঞ্জ জুড়ে প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কড়া সরকারি নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের স্তর পেরিয়ে একজন পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া কোনো একক ব্যক্তির কাজ হতে পারে না। এর নেপথ্যে কোনো বড়সড় প্রাতিষ্ঠানিক চক্র বা ‘র্যাকেট’ সক্রিয় থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যারা আর্থিক বিনিময়ে পুরুষদের নাম নারীদের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। ঘটনার গভীরতা ও ব্লু-প্রিন্ট উদ্ঘাটন করতে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়ো নথি ও ব্যাঙ্কের পাসবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে বহরমপুর আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে এই জালিয়াতি চক্রের মূল পান্ডাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।