‘যোগ্যতা নেই মনে হয়েছিল,’ বিদায়বেলায় চোখের কোণে জল ফিরহাদের

অবশেষে কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম!
কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস আগেই তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দায়িত্ব গ্রহণের স্মৃতি ও চ্যালেঞ্জ
বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ ফিরহাদ হাকিম ফিরে গেলেন ২০১৮ সালের সেই স্মৃতিতে, যখন আকস্মিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাঁকে মেয়রের চেয়ারে বসতে হয়েছিল। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর মনে হয়েছিল এই চেয়ারে বসার মতো যোগ্যতা তাঁর আছে কি না। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বসু ও বিধানচন্দ্র রায়ের মতো কিংবদন্তিদের আদর্শকে সামনে রেখে তিনি কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান। তাঁর দীর্ঘ মেয়াদে কোভিড মহামারীকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুঃসময়ে কর্পোরেশনের কর্মীরা যেভাবে জঞ্জাল পরিষ্কার ও জনসেবামূলক কাজ করেছেন, তা ছিল এক কঠিন পরীক্ষা।
জীবন বাজি রেখে জনসেবা
কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থেকে মেয়রের পদে আরোহণ করা ফিরহাদ হাকিম তাঁর মেয়াদে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের সাক্ষী থেকেছেন। করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের সময় নিজের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, মহানাগরিক হিসেবে মানুষের প্রাণ বাঁচানোই ছিল তাঁর কাছে প্রধান দায়বদ্ধতা। এই পদত্যাগের ফলে কলকাতার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে পুর পরিষেবার ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।