তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন, মেখলিগঞ্জ পুরসভা এখন কংগ্রেসের দখলে

দিল্লিতে বসে যখন পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কোচবিহারের মাটিতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। মেখলিগঞ্জ পুরসভার ক্ষমতা হাতবদল হয়ে গেল কংগ্রেসের দখলে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে হাত শিবিরে যোগ দিলেন পুরপ্রধান প্রভাত পাটনিসহ ছয়জন কাউন্সিলর।
রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন অধ্যায়
তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জন্য প্রদেশ কংগ্রেসের দরজা খুলে দেওয়ার কৌশল যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, মেখলিগঞ্জের এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। দলবদলকারী কাউন্সিলরদের দাবি, তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা জনসেবার কাজ ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই দলবদলকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি স্থানীয় স্তরের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও চাঞ্চল্য
মেখলিগঞ্জের এই পটপরিবর্তন কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্কের রসায়নের প্রভাব যে রাজ্যের বুথ স্তরে পড়বে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। মেখলিগঞ্জের হাত বদল হওয়ার ফলে কংগ্রেসের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পুরসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে থাকা অসন্তুষ্টদের মধ্যে দলবদল করার প্রবণতা বাড়তে পারে। আসন্ন দিনগুলোতে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল বিরোধী জোটকে আরও জোরালো করার পথ প্রশস্ত করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।