কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় কড়া হাইকোর্ট, রাজ্যকে তলব!

গ্রেফতারের পর আসামিকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো কেন, হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য
পুলিশি হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানোর ঘটনায় কড়া মনোভাব দেখাল কলকাতা হাইকোর্ট। বিষয়টি নিয়ে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ার পর, রাজ্যের কাছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল কি না, তা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার বনাম পুলিশের পদক্ষেপ
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশি ক্ষমতা বলে অপরাধীকে গ্রেফতার করা গেলেও, কোনোভাবেই তার আত্মসম্মান বা মানবিক মর্যাদায় আঘাত হানা যায় না। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনের শাসন বজায় রাখা পুলিশের কর্তব্য, কিন্তু কোনো অভিযুক্তের সঙ্গে অমানবিক আচরণ কাম্য নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড যে বিচারব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়, তা এই নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে।
রাজ্যের যুক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অপরাধের পুনর্নির্মাণ বা ‘রিক্রিয়েশন’-এর উদ্দেশ্যেই পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে হাইকোর্ট এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই পুরো ঘটনার লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে চার সপ্তাহ পর। এই ঘটনা ভবিষ্যতে পুলিশি কার্যপদ্ধতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।