দ্বিতীয় বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্ক মানেই ধর্ষণ! বোম্বে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

ভারতে প্রথম পক্ষের স্ত্রী বা স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এবার এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়ে বোম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রথম বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও দ্বিপত্নীকতার এফআইআর কোনোভাবেই খারিজ করা যাবে না।
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও মামলার প্রেক্ষাপট
এই আইনি পদক্ষেপের সূত্রপাত মূলত একটি প্রতারণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ২০১৪ সালে এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন এক বিবাহিত ব্যক্তি। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দু’বছর ধরে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ওই মহিলাকে ছেড়ে চলে গেলে তিনি ২০১৯ সালে এফআইআর দায়ের করেন। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সেই অভিযোগ খারিজ করার আবেদন নিয়েই অভিযুক্ত ব্যক্তি বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য আইনি প্রভাব
শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল বলে তা ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে না। তবে হাইকোর্ট সেই যুক্তি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেয়। আদালতের সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযোগকারিণীর বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন এবং বেআইনিভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। সুতরাং, মিথ্যা আশ্বাসের ভিত্তিতে আদায় করা সম্মতি কখনই আইনি বৈধতা পায় না। এই যুগান্তকারী রায় নারী সুরক্ষা ও আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক বিরাট দৃষ্টান্ত। এর ফলে বিবাহিত তথ্য গোপন করে বা মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদে ফেলে নারীদের প্রতারিত করার প্রবণতা যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা একটি সুস্পষ্ট দিশা পাবে।