কারাগারে দুই নারী বন্দীর গর্ভধারণ নিয়ে তোলপাড়!

কারাগারে দুই নারী বন্দীর গর্ভধারণ নিয়ে তোলপাড়!

আমেরিকার নিউ জার্সির একটি মহিলা সংশোধনাগারে দুই বন্দিনীর গর্ভধারণের খবরে প্রশাসন ও পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই জেলে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

নিউ জার্সির ‘এডনা মাহান কারেকশনাল ফেসিলিটি’ নামক ওই জেলে শুধুমাত্র মহিলা বন্দিদের রাখা হয়। জেলের ডিরেক্টর ড্যান স্পেরাজা জানিয়েছেন, ওই দুই বন্দিনী জেলেরই অপর এক সহ-বন্দিনীর সঙ্গে সম্মতিসূচক শারীরিক সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই বন্দিনীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। অভাবনীয় এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে জেল কর্তৃপক্ষ।

কীভাবে সম্ভব হলো এমন ঘটনা?

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সম্পূর্ণ মহিলাদের জেলে গর্ভধারণ কীভাবে সম্ভব হলো? জেল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই মহিলা যে বন্দিনীর সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হয়েছিলেন, তিনি আদতে একজন রূপান্তরিত নারী বা ট্রান্সজেন্ডার। তিনি নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁর শরীরে পুরুষাঙ্গ ও প্রজনন ক্ষমতা অক্ষত রয়ে গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বর্তমানে ওই সংশোধনাগারে মোট ২৭ জন রূপান্তরিত নারী বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই লিঙ্গ পরিবর্তনের সম্পূর্ণ অস্ত্রোপচার করাননি।

বিতর্কে প্রশাসনের নীতি

এই নজিরবিহীন ঘটনার নেপথ্যে নিউ জার্সি প্রশাসনের ২০২১ সালের একটি বিশেষ নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। ওই নীতি অনুযায়ী, রূপান্তরিত ব্যক্তিদের তাঁদের জন্মগত লিঙ্গের পরিবর্তে বর্তমান লিঙ্গপরিচয়ের ভিত্তিতে জেলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আর সেই নীতির জেরেই সম্পূর্ণ রূপান্তরিত না হওয়া ব্যক্তিদেরও মহিলা জেলে রাখার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *