অনুপ্রবেশকারীদের নিতে চাইছে না বাংলাদেশই, উল্টে ভারতকে দোষারোপ

ভারত থেকে জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে এবার সরাসরি নয়াদিল্লিকে কাঠগড়ায় তুলল ঢাকা। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে জোর করে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অন্তত ১০টি চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। এই ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক প্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে গুরুতর কূটনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিজিবি-র অভিযোগ ও কড়া হুঁশিয়ারি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। ঢাকার দাবি, ভারতে বসবাসকারী সন্দেহভাজনরা যদি সত্যিই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথেই তাঁদের নির্বাসিত করা উচিত, কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে জোর করে ঠেলে দেওয়া বা ‘পুশ-ইন’ করা নয়।
ভারতের নীরবতা ও পূর্ববর্তী পদক্ষেপ
বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ভারতের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ২,৮৬০ জনের বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু এবং শাসক দল বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে আসছে।
ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও আগামী বৈঠক
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। নদী, পাহাড় ও ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই জটিল ভৌগোলিক অঞ্চলে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো দুই দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উত্তেজনা প্রশমন এবং এই তিক্ত অচলাবস্থা কাটাতে এবার সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিএসএফ এবং বিজিবি-র শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং এই পুশব্যাক ইস্যু নিয়ে দুই দেশের কমান্ডাররা নিজেদের বক্তব্য ও প্রতিবেদন পেশ করবেন বলে জানা গিয়েছে।