তৃণমূলের ভরাডুবিতে কংগ্রেসের পোয়াবারো! দলবদল করে মেখলিগঞ্জ পুরসভা দখল করল ‘হাত’ শিবির

তৃণমূলের ভরাডুবিতে কংগ্রেসের পোয়াবারো! দলবদল করে মেখলিগঞ্জ পুরসভা দখল করল ‘হাত’ শিবির

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবিরে যে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে, তার সরাসরি সুবিধা পেতে শুরু করল কংগ্রেস। রাজ্যের একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে যখন কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের ইস্তফার হিড়িক লেগেছে, ঠিক তখনই এক অভিনব সমীকরণে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভা নিজেদের দখলে নিল শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেস।

ভোট না জিতেও পুরবোর্ড কংগ্রেসের হাতে

গত পুরসভা নির্বাচনে মেখলিগঞ্জ পুরসভার মোট ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টিতেই জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। পরবর্তীতে একজন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল সাতে। কিন্তু শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতার বিধান ভবনে এক নাটকীয় দলবদলের পর পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। মেখলিগঞ্জ পুরসভার বর্তমান পুরপ্রধান প্রভাত পাটনি স্বয়ং তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করে ‘হাত’ শিবিরে নাম লেখান আরও ৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর।

৯টি ওয়ার্ডের মেখলিগঞ্জ পুরসভায় বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার হলো ৫। ফলে একসঙ্গে ৬ জন কাউন্সিলরকে নিজেদের পক্ষে পাওয়ায় মেখলিগঞ্জ পুরসভা কার্যত বিনা ভোটে দখল করে নিল কংগ্রেস। বর্তমানে এই পুরসভায় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ১ জন কাউন্সিলর অবশিষ্ট রইলেন, যিনি এখনও তৃণমূলেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিন দলবদলকারী কাউন্সিলরদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দেবপ্রসাদ রায়।

দলবদলের কারণ ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা

তৃণমূল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেখলিগঞ্জের পুরপ্রধান প্রভাত পাটনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে কাজ বা লড়াই করা আর সম্ভব হচ্ছিল না। দলটির নেতারা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ লড়াই এবং কোন্দল নিয়েই ব্যস্ত। তাই এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করতেই আমরা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

একই সঙ্গে রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে স্লোগান দিয়েছিল—’ভয় আউট, ভরসা ইন’। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই সমস্ত জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙন এবং পুরসভাগুলোর হাতবদল রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনিক সমীকরণকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *