সম্পর্ক ও বন্ধু! শিম্পাঞ্জিদের অবাক করা সামাজিকতায় মিলল মানুষের ছায়া

মানুষ সামাজিক জীব। জীবনে চলার পথে অনেকের সঙ্গে আলাপ হলেও, আমরা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সঙ্গেই নিবিড় বন্ধুত্ব পাতাই। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সেই পরিচিত বন্ধুবৃত্ত ক্রমশ ছোট হয়ে আসে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অবিকল মানুষের মতোই অদ্ভুত এই সামাজিক আচরণ করে শিম্পাঞ্জিরাও!
সামাজিক সম্পর্ক ও বন্ধু নির্বাচন
নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেক্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্পেনের কার্লোস ৩ ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি শিম্পাঞ্জি ও আফ্রিকান বোনোবোদের নিয়ে একটি বিস্তর গবেষণা চালিয়েছেন। ‘আইসায়েন্স’ (iScience) পত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শিম্পাঞ্জিরাও মানুষের মতো সামাজিকতায় অত্যন্ত পটু। গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে তাদের মেলামেশা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তারা গোষ্ঠীর সকলের সঙ্গে সমানভাবে মেশে না। বরং, সচেতনভাবে গুটিকয়েক সঙ্গীকে বেছে নিয়ে তাদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করে।
শিম্পাঞ্জি ও বোনোবোর স্বভাবগত পার্থক্য
গবেষণায় শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে বোনোবোদের সামাজিক আচরণের কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য উঠে এসেছে। বোনোবোরা গোষ্ঠীর প্রায় সকলের সঙ্গেই সমানভাবে মেশার চেষ্টা করে, যার ফলে তাদের মধ্যে একটি সমতাভিত্তিক সামাজিক কাঠামো গড়ে ওঠে। অন্যদিকে, বড় গোষ্ঠীতে বসবাস করলেও শিম্পাঞ্জিরা বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি খুঁতখুঁতে হয়ে থাকে। তারা নির্দিষ্ট কিছু সঙ্গীর প্রতিই নিজেদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখে এবং বাকিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গভীরতা অনেক কম হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে বন্ধু
গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো বয়সের প্রভাব। মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিদেরও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বন্ধুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং তারা মেলামেশাও অনেক কমিয়ে দেয়। বোনোবোদের ক্ষেত্রে অবশ্য সময়ের সঙ্গে সামাজিক বৃত্ত ছোট হওয়ার এই প্রবণতা এত প্রকট নয়। এই গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ইউট্রেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এডউইন ভান লিউয়েনের মতে, সামাজিক বন্ধন ও সম্পর্ক গড়ে তোলার এই মৌলিক নিয়মগুলি বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে জটিল সমাজব্যবস্থা গঠনে বিবর্তনের ধারাবাহিকতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।