শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির মহামিছিল!

নয়াদিল্লি
একটি নিছক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল থেকে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল আন্দোলনে পরিণত হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জ্যাজ-র্যাপ লিরিক্স এবং এআই-এর সাহায্যে তৈরি এই দলের একটি ব্যঙ্গাত্মক মিউজিক ভিডিও ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল, যা তাদের এই অবিশ্বাস্য উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। আর এবার সেই ডিজিটাল দাপটকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আজ দিল্লিতে এক বিশাল প্রকাশ্য বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিককালের একাধিক গুরুতর ত্রুটির প্রতিবাদে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেই আজ রাস্তায় নামছেন দলটির সমর্থকরা।
বিক্ষোভকারীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা
দলের পক্ষ থেকে আজ সকাল ৯টায় সমস্ত সমর্থকদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলার পরেই তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হবেন। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকালই আমেরিকা থেকে রওনা দিয়েছেন এবং আজ সকাল ৮টা নাগাদ তাঁর দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা। প্রথমে সমর্থকদের সরাসরি বিমানবন্দরেই পৌঁছতে বলা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে নিরাপত্তা জনিত কারণে সেই সিদ্ধান্ত বদল করে সকলকে পুলিশ স্টেশনেই জমায়েত করতে বলা হয়।
সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে বদ্ধপরিকর সিজেপি। সেই কারণে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বার্তা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে প্রত্যেককে সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং একটি বই নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়াও নিজেদের মোবাইল ফোনে পুরো বিক্ষোভের ভিডিও রেকর্ড করা, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হাতে ফুল তুলে দেওয়া এবং অবশ্যই সকালে প্রাতরাশ সেরেই তবেই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের অবস্থান ও নিরাপত্তা জোরদার
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে সিজেপি এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জন্য তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুমতির আবেদন জানায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে যন্তর মন্তর চত্বরে এক হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক। তিনি আরও বলেন, অনুমতির আবেদন জমা পড়লে তা খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিশাল প্রতিবাদের প্রচার দেখে গতকাল সকালেই এক জরুরি বৈঠকে বসেন দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখানেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও আটসাঁট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।