আসন পুনর্বিন্যাস করতেই হবে, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে সাফ দাবি শমীকের
দেশের লোকসভার আসন সংখ্যার পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন যে অত্যন্ত জরুরি, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার দিল্লিতে তিনি দাবি করেছেন যে, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বর্তমানে অপর্যাপ্ত এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনতার প্রত্যক্ষ সংযোগ রক্ষার্থে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা অনিবার্য।
আসন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা
শমীক ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে ১৮ থেকে ২০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধিদের পৌঁছে যাওয়া ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই ক্ষমতা ও গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বিজেপি সরকার এই বিল পাস করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর এবং শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিতেই এটি সংসদে পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকার যদি ডিলিমিটেশন বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলকেও যুক্ত করে, তবে সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সরকার কিছু আঞ্চলিক দলের সমর্থন লাভের চেষ্টা করতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্য এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। বাংলাদেশের এক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে করা মমতার মন্তব্যকে তিনি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। শমীকের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিজেদের অসুরক্ষিত বোধ করছেন। এহেন মন্তব্যের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের জনতা তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এবং আগামীতে তাদের রাজনীতি থেকেও উপড়ে ফেলবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।