মাংস কাটার দিনমজুর থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য, তৃণমূল নেতা নাসিরের রকেটের গতিতে উত্থান ঘিরে শোরগোল

একসময়ে সাধারণ মাংসের দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে চলত সংসার। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় এসে মাত্র কয়েক বছরেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল বোলপুরের নাসির শেখের। বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। বীরভূম জেলা জুড়ে তাঁর এই রকেটের গতিতে আর্থিক উত্থান এবং বিপুল বৈভব এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই বর্তমানে ওই তৃণমূল নেতা এলাকা ছেড়ে পলাতক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিন্ডিকেটের জোরে বিপুল প্রতিপত্তি
নাসির শেখের এই বিপুল সম্পত্তির পেছনে মূলত অবৈধ টোল আদায় ও বেআইনি বালি পাচারের সিন্ডিকেট জড়িয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। বীরভূমের দেউচায় পূর্ত দপ্তরের রাস্তার উপর জেলা পরিষদের নাম ব্যবহার করে বেআইনি টোল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি। শুধু মহম্মদবাজার নয়, ইলামবাজার ও বোলপুর পুরসভার প্রায় ছয়টি জায়গায় এই অবৈধ টোল ট্যাক্স আদায়ের কারবার চলত। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মালবাহী গাড়ি, ট্রাক ও ডাম্পার থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো এবং বিনিময়ে জেলা পরিষদ বা পুরসভার ভুয়ো রশিদ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এছাড়া শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের পার্কিং টেন্ডার থেকে শুরু করে লালবাঁধ এলাকার মাছ চাষও তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকার সুবাদেই নাসির এই ক্ষমতা পেয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
তদন্তের নজর ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের আমলে তৈরি নাসিরের এই সাম্রাজ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজর পড়েছে। কোটির টাকার বিলাসবহুল বাড়ি, বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং দামী গাড়ির বহর থাকার কারণে গরুপাচার মামলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি ও সিবিআই। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক নির্দেশিকায় এই সমস্ত বেআইনি ড্রপগেট ও অবৈধ টোল আদায় বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই অবৈধ টাকা শাসক দলের তহবিলে যেত এবং আগামী দিনে এই সমস্ত বেআইনি কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের খতিয়ান সামনে আসায় স্থানীয় রাজনীতিতে যেমন সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।