হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা, ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিল আমেরিকা!

হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা, ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিল আমেরিকা!

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির আলোচনা কার্যত থমকে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে, আমেরিকাও তার কড়া জবাব দিয়ে ইরানের রাডার সাইটে প্রত্যাঘাত করেছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমেরিকার পালটা আঘাত ও কারণ

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তারা বান্দার আব্বাসের উপকূলে লারাক দ্বীপের কাছে মার্কিন জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ৪টি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী পালটা আঘাত হানে। আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আত্মরক্ষার্থে গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। যদিও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলি আমেরিকার এই হামলার দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

স্থবির শান্তিচুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

কূটনৈতিক স্তরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির আলোচনা থমকে থাকায় এই পালটাপালটি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় এক ভারতীয়ের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আগেই জটিল করে তুলেছিল। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে বর্তমানে মাত্র ২১-২২ শতাংশ মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। তাঁর প্রশাসন দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং যে কোনো উপায়ে আমেরিকা জয়ী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। এই ক্রমাগত সংঘাত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *