কেরলে স্কুল বন্ধের উপক্রম, বাংলা থেকে ফেরা শ্রমিকদের সংকটে বিপাকে শিক্ষকেরা

কেরলের বহু স্কুলে এখন পড়ুয়ার সংখ্যা নামমাত্র, যা ঘিরে তীব্র সংকটের মুখে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা। ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানরাই এই স্কুলগুলোর মূল ভরসা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাজ করতে যাওয়া লক্ষাধিক শ্রমিকের সন্তানরা নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে না ফেরায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকা, যাদের এখন চাকরি হারানোর আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
নথিপত্র ও আধার কার্ডের জটিলতা
কেরলের স্কুলগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রায় এক লাখেরও বেশি সন্তান পড়াশোনা করে। মূলত পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের একটি বড় অংশই এ বছর এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর আর কর্মস্থলে ফেরেননি। বর্তমান প্রশাসনিক তৎপরতায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণের কাজ চলায় উপযুক্ত নথিপত্র নিয়ে শঙ্কিত শ্রমিকরা। স্কুলগুলোতে এখন পড়ুয়াদের নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বেশিরভাগ শ্রমিকের সন্তানেরই এই কার্ড না থাকায় এবং উপযুক্ত নথিপত্র সংগ্রহের জটিলতায় তারা স্কুল থেকে দূরে রয়েছেন।
মজুরি বিতর্ক ও শ্রমিক সংকট
স্কুলগুলোর এই পরিস্থিতির নেপথ্যে প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি মজুরি সংক্রান্ত বিতর্ককেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেরলের নির্মাণ শিল্পে যুক্ত শ্রমিকদের একাংশ না ফেরায় কাজে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের একাংশের দাবি, লেবার কন্ট্রাক্টররা কৃত্রিম শ্রমিক সংকট তৈরি করে মজুরি বৃদ্ধির চাপ দিচ্ছে। ফলে একাধারে নথিপত্রের ভয় এবং অন্যদিকে কাজের বাজারে নতুন সমীকরণের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরা বিলম্বিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কেরলের বিদ্যালয়গুলোতে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক সংগঠনগুলো।