ইন্টারনেটের মজা থেকে রাজপথে আন্দোলন, ইতিহাস গড়ার পথে কি ককরোচ জনতা পার্টি?

দিল্লির যন্তর মন্তরে আজ এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল দেশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ব্যানারে সমবেত হলেন হাজার হাজার তরুণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক একটি উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, আজ এই ‘জেন জি’ প্রতিবাদী আন্দোলনটি যেভাবে রাজপথে রূপ নিয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজপথের শক্তি
সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির সময় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিজেপি-র ডিজিটাল উত্থান অভূতপূর্ব। ইনস্টাগ্রামে ২ কোটি ২০ লক্ষের বেশি অনুসারী নিয়ে এই দলটি এখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ডিজিটাল উপস্থিতিকে ছাপিয়ে গেছে। মূলত শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব এই সংগঠনটি এখন কেবল অনলাইন ফোরামেই সীমাবদ্ধ নেই। সোনম ওয়াংচুক, প্রকাশ রাজ এবং কঙ্কনা সেন শর্মার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সমর্থন এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
আন্দোলন থেকে ক্ষমতার অলিন্দে
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু সফল দলের জন্ম হয়েছে কোনো না কোনো গণআন্দোলন থেকে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, জনতা পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, আসাম গণপরিষদ কিংবা তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির মতো দলগুলো কোনো না কোনো দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের ফসল। পরবর্তীকালে এই সংগঠনগুলো মূলধারার রাজনীতিতে এসে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী জন লোকপাল আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া আম আদমি পার্টিও সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছেছিল।
এখন সিজেপি কি কেবল বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তুলে থেমে যাবে, নাকি ঐতিহাসিক সেই পথ অনুসরণ করে তারাও ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর কৌতূহল। বর্তমান প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভারতের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।