যন্তর-মন্তরের হাইভোল্টেজ বিক্ষোভে ‘হিট’ স্প্রে নিয়ে ঢুকে পড়লেন যুবক, তীব্র উত্তেজনা দিল্লিতে!

দিল্লির যন্তর-মন্তরে ছাত্র স্বার্থরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আজ এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এই হাইভোল্টেজ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গোটা নতুন দিল্লি এলাকাকে ১২টি জোনে ভাগ করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। কিন্তু এই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মাঝেই এক নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র হুলস্থুল পড়ে যায় বিক্ষোভস্থলে। আন্দোলনকারীদের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই এক ব্যক্তিকে হাতে ‘হিট’ (তেলাপোকা মারার স্প্রে) নিয়ে ঢুকে পড়তে দেখা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
‘দেশদ্রোহীদের নয়, যুবসমাজের পাশে আছি’, দাবি ওই যুবকের
বিক্ষোভের মাঝে হিট স্প্রে নিয়ে ঢুকে পড়া ওই ব্যক্তির নাম ইরশাদ বলে জানা গেছে। ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে জানান, রান্নাঘরের মতো দেশেও কোনো ‘ককরোচ’ বা ক্ষতিকারক উপাদানকে তিনি জন্মাতে দেবেন না। সিজেপি এবং তার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি অভিযোগ করেন, সিজেপি প্রধান দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করেন এবং তাকে আমেরিকা থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি দেশের সাধারণ ছাত্র ও যুবসমাজের অধিকারের পক্ষে আছেন, কিন্তু কোনো দেশদ্রোহীর পক্ষে নন। উল্লেখ্য, আজ সকালেই ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানে আমেরিকা থেকে দিল্লি ফিরে সরাসরি আন্দোলনে যোগ দেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক এবং ‘জয় ভীম’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
দুর্গে পরিণত যন্তর-মন্তরে সুরক্ষার কড়াকড়ি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার জেরে দিল্লির আইনশৃঙ্খলার ওপর বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর-মন্তরে সিআরপিএফ (CRPF), র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারিকেড দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে চারপাশ। সংসদ মার্গের দিকে অগ্রসর হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে সিসিটিভি নজরদারি চালানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি ও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতি এবং ছাত্র আন্দোলনে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।