ভিআইপি সংস্কৃতি অতীত, মেট্রো ও অটোয় চড়ে কলকাতার রাস্তায় খোদ রেলমন্ত্রী

ভিআইপি সংস্কৃতি অতীত, মেট্রো ও অটোয় চড়ে কলকাতার রাস্তায় খোদ রেলমন্ত্রী

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বঙ্গ সফরে এখন এক নতুন ধারার সূচনা দেখা যাচ্ছে। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাইভোল্টেজ বৈঠকের আগে এক অসামান্য ও নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। কোনো রকম রাজকীয় প্রোটোকল বা ভিআইপি আড়ম্বর ছাড়াই সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গেলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর এই সরল ও ঘরোয়া মেজাজ মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়।

মেট্রো সফর ও সাফাই কর্মীদের সঙ্গে বার্তালাপ

শনিবার সকালে আচমকাই ‘জয় হিন্দ’ মেট্রো স্টেশনে হাজির হন রেলমন্ত্রী। সাধারণ যাত্রীদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পর তিনি নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো সফর করেন। কামরার ভেতরে সহযাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সরাসরি শোনেন তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার কথা। মেট্রো পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাকও নেন তিনি। নোয়াপাড়া স্টেশনে নেমে মন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য ছিল স্টেশন চত্বর, যেখানে তিনি কর্মরত সাফাই কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান। স্টেশন পরিষ্কার রাখার কাজে তাঁদের নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। এমন একজন উচ্চপদস্থ কর্তাকে নিজের পাশে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন কর্মীরাও।

অটোয় যাত্রা ও নতুন রাজনৈতিক বার্তা

সফরের সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল নোয়াপাড়া স্টেশনের বাইরে। প্রথাগত বিলাসবহুল সরকারি গাড়ির বদলে অশ্বিনী বৈষ্ণবকে দেখা যায় একটি সাধারণ অটো-রিকশায় চড়তে। নোয়াপাড়া থেকে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত এই অটো সফর ছিল শনিবাসরীয় কলকাতার অন্যতম আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে গভীর বার্তা। একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয় ও গণপরিবহন ব্যবহারের সংকল্পকে তিনি সামনে তুলে ধরেছেন, তেমনই নতুন সরকারের অধীনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের যে মেলবন্ধন ঘটেছে, তাকেই তিনি প্রতীকী রূপ দিয়েছেন। এই জনসংযোগের পরই রেলমন্ত্রী সোজা নবান্নে পাড়ি দেন, যেখানে রাজ্যের থমকে থাকা ও নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *