ইরানের অস্থিরতায় তেল সংকট আর দুর্বল বর্ষার আশঙ্কায় ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার পূর্বাভাস

ইরানের অস্থিরতায় তেল সংকট আর দুর্বল বর্ষার আশঙ্কায় ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার পূর্বাভাস

চলতি অর্থবর্ষের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের পরেও ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশে বর্ষার অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনীতিকে স্ট্যাগফ্লেশনের মতো জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিস। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণী রিপোর্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার এই জোড়া বিপদ আগামী অর্থবর্ষে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রবৃদ্ধির গতি কমার আশঙ্কা

গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতের আসল জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশে পৌঁছালেও, নতুন করে তৈরি হওয়া বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনের পূর্বাভাস সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিস অর্থবর্ষ ২০২৭-এর জন্য আসল জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৬ থেকে ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। মূলত ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়াকেই এই মন্দা পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আঘাত হানলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও আকাশছোঁয়া হতে পারে।

অর্থনীতির রক্ষাকবচ ও চ্যালেঞ্জসমূহ

স্ট্যাগফ্লেশনের এই ঝুঁকি সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি এখনও সক্রিয় রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুপরিকল্পিত মুদ্রানীতি, ঋণের প্রবাহের গতি এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল মুদ্রা বাজার অর্থনীতিকে কঠিন সময়ে সহায়তা করতে পারে। রিপোর্টে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তিগত খরচের হার কিছুটা কমে যাওয়া এবং রপ্তানি বাণিজ্যে চাপের বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে তেলের বাজার এবং প্রাকৃতিক বর্ষণের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *