সমুদ্র মন্থনে বিরাট সাফল্য, জ্বালানি সংকটের মাঝেই আন্দামানে মিলল বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডার

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতের জন্য এক স্বস্তির খবর নিয়ে এলো আন্দামান উপকূলীয় অববাহিকা। গভীর সমুদ্রে বড়সড় সাফল্য পেয়ে সেখানে এক বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওআইএল)। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সরকারের এই বিশেষ অনুসন্ধান প্রচেষ্টাকে ‘সমুদ্র মন্থন’ উদ্যোগের অধীনে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে, প্রায় ৩৫৫ মিটার গভীর জলে অবস্থিত ‘শ্রী বিজয় পুরম-৩’ অনুসন্ধানমূলক কূপে এই গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইওসিন স্তরে ১,৯০০ মিটারেরও বেশি গভীরতায় প্রাথমিক উৎপাদন পরীক্ষার সময় ক্রমাগত ফ্লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। ওআইএল-এর অনুসন্ধান কর্মসূচির অধীনে আন্দামান অববাহিকায় এটি দ্বিতীয় নিশ্চিত হাইড্রোকার্বন আবিষ্কার। ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত খনন করা তিনটি অনুসন্ধানমূলক কূপের মধ্যে দু’টিতেই হাইড্রোকার্বনের চিহ্ন মিলেছে, যা দেশের জ্বালানি মানচিত্রে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবিষ্কারের নেপথ্য কারণ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে আন্দামান-নিকোবর অববাহিকার অনন্য ভূ-প্রকৃতি। এই অঞ্চলটি মূলত মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার হাইড্রোকার্বন-সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে একই ভূতাত্ত্বিক বলয়ে অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হচ্ছিল যে, এখানে বিশাল ও অব্যবহৃত খনিজ ভাণ্ডার মজুত রয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট ‘সমুদ্র মন্থন’ পরিকল্পনার আওতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে খননকার্য পরিচালনার ফলেই এই গুপ্ত ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের বাজারে এই আবিষ্কার ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি সুরক্ষায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমদানি করা খনিজ তেল ও গ্যাসের ওপর দেশের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। তাছাড়া, এই সফল আবিষ্কারের পর বিশেষজ্ঞদের ধারণা জোরালো হয়েছে যে, আন্দামান-নিকোবর অঞ্চলটি আগামী দিনে ভারতের তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ভরসাকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।