নয়াচরে মৎস্য হাব গড়ার তোড়জোড়, দখলমুক্ত করতে কড়া প্রশাসন

নয়াচরে মৎস্য হাব গড়ার তোড়জোড়, দখলমুক্ত করতে কড়া প্রশাসন

হলদিয়ার অদূরে হুগলি নদীর মোহনায় অবস্থিত ৬৪ বর্গমাইল আয়তনের দ্বীপ নয়াচরকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে দ্বীপটিকে একটি পরিকল্পিত ‘মৎস্য হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে সরকার। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বসবাসকারী হাজার হাজার বেআইনি দখলদারকে।

দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কড়া বার্তা

নয়াচরের দখলদারি সরাতে তৎপর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা এবং হলদিয়ার মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে এক বিশাল পুলিশবাহিনী দ্বীপটি পরিদর্শন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বেআইনি বসবাসকারীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযানের সময় বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয় এবং বহিরাগতদের অবিলম্বে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের দাবি, নয়াচরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বহিরাগত দুষ্কৃতীরা সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে, যা উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এছাড়া, বেআইনি মাছ চাষের ফলে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ এলাকাটি মৎস্য দফতরের অধীনে এনে টেন্ডারের মাধ্যমে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হবে।

মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ ও আইনি সংকট

দ্বীপটিতে বর্তমানে প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষ মাছ চাষের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দীর্ঘকাল ধরে পূর্বতন সরকারের কাছে আইনি স্বীকৃতির দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নতুন আশায় বুক বাঁধছেন। তারা দাবি জানাচ্ছেন, সরাসরি সরকারকে রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে আইনিভাবে সেখানে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়া হোক। উচ্ছেদের বদলে বিকল্প কর্মসংস্থান ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করাই এখন নয়াচরের বাসিন্দাদের প্রধান দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *