ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের রহস্যময় নো ম্যানস ল্যান্ডে সাধারণের প্রবেশ কি আদৌ সম্ভব?

বিশ্বের অন্যতম জটিল ও সংবেদনশীল সীমান্ত হলো ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত। ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুবিস্তৃত সীমানা জুড়ে দেশভাগের ইতিহাস, নদী ও ঘন জঙ্গলের মতো ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ছড়িয়ে আছে। সীমান্ত নিয়ে আলোচনার সময় প্রায়শই উঠে আসে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা ‘অনাগত ভূমি’-র কথা। সাধারণের মনে প্রশ্ন জাগে, এই ভূখণ্ডটি আসলে কার এবং সেখানে আইনই বা কেমন?
সীমান্ত প্রোটোকল ও নো ম্যানস ল্যান্ডের বাস্তবতা
আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য যৌথ ভারত-বাংলাদেশ নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জিরো লাইন থেকে উভয় পাশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। মূলত, জিরো লাইন থেকে কাঁটাতারের বেড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই পরিষ্কার ভূখণ্ডকেই সাধারণভাবে নো ম্যানস ল্যান্ড বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের মতো সমতল অঞ্চলে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হয়। ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজ ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে, ফলে বেড়া ও জিরো লাইনের মধ্যবর্তী এলাকাটি কার্যত নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ঘেরা থাকে।
কারা যেতে পারেন এই বিশেষ এলাকায়?
নো ম্যানস ল্যান্ড সাধারণ মানুষের জন্য কোনো পর্যটন বা যাতায়াতের স্থান নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী, এটি একটি কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ এলাকা। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর কৃষকদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। যাদের কৃষি জমি কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে পড়েছে, তারা বিএসএফ-এর কঠোর তত্ত্বাবধানে সেখানে চাষাবাদের অনুমতি পান।
এক্ষেত্রে কৃষকদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিএসএফ-এর গেটে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা প্রবেশ করতে পারেন এবং দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগেই তাদের ফিরে আসতে হয়। কোনো অবস্থাতেই তারা জিরো লাইন অতিক্রম করে অন্য দেশে যেতে পারেন না। কড়া সামরিক নজরদারির কারণে সাধারণ পর্যটক বা বাইরের কোনো নাগরিকের জন্য এই এলাকায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। মূলত জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধ করতেই এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।