ওয়াশিংটনের উপরেও নজরদারি চালাচ্ছেন ইজ়রায়েলি গুপ্তচরেরা: রিপোর্ট
June 6, 20265:56 pm

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও গোয়েন্দা সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক এই রিপোর্ট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তরফ থেকে ইজ়রায়েলি গুপ্তচরদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনটির মূল দিকসমূহ:
- পেন্টাগনের উদ্বেগ: আমেরিকার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (DIA) একটি অভ্যন্তরীণ নোটিসে ইজ়রায়েলি গোয়েন্দাদের বর্ধিত সক্রিয়তাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করেছে। এটি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- প্রেক্ষাপট: ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মতপার্থক্য ও উত্তপ্ত কথোপকথনের পরই এই খবর প্রকাশ্যে এল, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
- সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমেরিকার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইজ়রায়েলে সফরের সময় আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। তারা বার্নার ফোন (Burner phone) ব্যবহার করা এবং হোটেলের ঘরে গোপন আলোচনা এড়িয়ে চলার মতো কঠোর প্রোটোকল মেনে চলেন, যা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার ‘আগ্রাসী’ কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল।
- দুই পক্ষের অবস্থান: ইজ়রায়েলি দূতাবাস এবং আমেরিকান প্রশাসন—উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইজ়রায়েলের দাবি, তারা আমেরিকার আধিকারিকদের ওপর নজরদারি চালায় না।
বিশ্লেষণ:
দুই মিত্র দেশের মধ্যে এই ধরণের সংবাদ প্রকাশ্যে আসা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও, পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রে যে কিছুটা ফাটল দেখা দিয়েছে, এই রিপোর্ট তারই ইঙ্গিত বহন করছে। এটি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।