সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ভাঙা হলো শতবর্ষের প্রাচীন মসজিদ! উত্তাল সম্ভল

উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে সরকারি জমি উদ্ধারের নামে মুস্তফা কাদরি মসজিদে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক বুলডোজার ব্যবহার করে ১২০ বর্গমিটার জমির ওপর নির্মিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ও আইনি প্রেক্ষাপট
প্রশাসনের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত একটি রাজস্ব জরিপে দেখা গেছে, যে জমির ওপর মসজিদটি অবস্থিত তা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। প্রশাসনের অভিযোগ, সরকারি মালিকানার নথি থাকা সত্ত্বেও মসজিদটিকে বেআইনিভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই অনিয়মের অভিযোগে মসজিদ কমিটির সাতজন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তহসিলদারের আদালতের ২১ এপ্রিল দেওয়া উচ্ছেদ আদেশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বহাল থাকার পর, কঠোর পুলিশি প্রহরায় এই ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
রাজ্য সরকারের ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। তবে এই পদক্ষেপে স্থানীয় জনমানসে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মসজিদ কমিটির দাবি, এটি প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রশাসনের তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের দাবি, ঐতিহ্যের এই নিদর্শন রক্ষার পরিবর্তে প্রশাসন বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। আইনানুগ লড়াইয়ের কথা জানালেও, হঠাৎ চালানো এই অভিযানে এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।